জাবি শিক্ষার্থীকে অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ; রাজনৈতিক স্লোগান দিতে বাধ্য করার দাবি
পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায় এবং রাজনৈতিক স্লোগান দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শরীফ মিয়া বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে পূর্বধলা থানায় ৩/৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় বেড়াতে গেলে শরীফ মিয়াকে দুই যুবক জোরপূর্বক স্থানীয় একটি ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যায়। পরে সেখানে আরও একজন যোগ দেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয় এবং দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের আর্থিক অক্ষমতার কথা জানানো হলে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ কমানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা শরীফের কাছে থাকা ৪ হাজার ৫৬০ টাকা, বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ১১ হাজার ৫০০ টাকা এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি শরীফকে ‘শেখ হাসিনা সঠিক ছিলেন’, ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ভুল ছিল বলেও তাকে বলতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শরীফ মিয়া (২১) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার শুনই গ্রামে। তিনি জানু মিয়ার ছেলে।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “শরীফ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। আমার জানা মতে, সে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি নেত্রকোনার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং শরীফের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।”
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ভুক্তভোগী শরীফ মিয়া ৩/৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এই পোস্টটি শেয়ার করুন

