পূর্বধলায় খাল খননে ঝুঁকিতে সেতু, আতঙ্কে এলাকাবাসী
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধোবারুহী এলাকায় সেতুর নিচে ও আশপাশে খাল খনন কর্মসূচির আওতায় অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে খননকাজ চালানো হচ্ছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই খালের তলদেশ থেকে মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ধোবারুহী ও বাদেপুটিকাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ, বিভিন্ন যানবাহন এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। ফলে জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।
পুটিকা গ্রামের বাসিন্দা শামছদ্দিন বলেন, “কয়েকদিন ধরেই সেতুর পাশে মাটি ধসে পড়ছে এবং সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এখন সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতেই ভয় লাগে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
আরেক বাসিন্দা আবুল বাশার মণ্ডল বলেন, “স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। সন্তানদের নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি।”
স্থানীয় অটোরিকশাচালক জাহিদ মিয়া বলেন, “প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাপার করছি। সেতুর দুই পাশে ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার তোফায়েল আহমেদ বলেন, “সেতু নির্মাণের সময় নিচে পাটাতন উঁচু করে বাঁধের মতো করায় উজানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। আমি পাটাতনের নিচে মাটি অপসারণ করায় পানি সহজে নিষ্কাশন হচ্ছে। নিয়ম মেনেই খাল খননের কাজ করা হয়েছে। সেতুর কোনো ক্ষতি হলে সরকার আবারও সেতু নির্মাণ করবে।”
এ বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীন জাহান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসাধারণের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।”

